, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪ , ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ


৭০ বছর ধরে গাছ লাগাচ্ছেন সিরাজুল ইসলাম

  • আপলোড সময় : ২১-১১-২০২৩ ০৬:১৩:৩৮ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২১-১১-২০২৩ ০৬:১৩:৩৮ অপরাহ্ন
৭০ বছর ধরে গাছ লাগাচ্ছেন সিরাজুল ইসলাম
সাফায়েত রহমান আবির,গলাচিপা প্রতিনিধি: গাছ লাগানো ও পরিচর্যা করায় যার নেশা। নিজের বাড়ি তো বটেই এলাকার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি খোলা জায়গায় গাছ লাগিয়ে বেড়ান তিনি। নিজের পকেটের টাকায় গাছ লাগানোই তার সব আনন্দ। সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে গাছ লাগিয়ে প্রায়, ৭০ বছর পার করেছেন গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের পূর্ব আটখালী গ্রামের সিরাজুল ইসলাম (৮২)। গ্রামে তিনি বৃক্ষপ্রেমিক নামে পরিচিত। এই ৭০ বছরে ৫০ হাজার গাছ রোপন করেছেন তিনি। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা বারো মাস নিজের টাকা খরচ করে এলাকায় এলাকায় গাছ লাগান এবং মানুষকে গাছ লাগানোর জন্য ও গাছের পরিচর্যা করার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন।

পটুয়াখালী শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে ডাকুয়া গ্রামের টিনশেডের ঘরে বসে কথা হয় সিরাজুলের সঙ্গে। পরে গ্রাম ঘুরে ঘুরে দেখান তার লাগানো গাছগুলো। পরম মমতায় গাছগুলো বেড়ে উঠছে। কোনো গাছ ৫০ বছর পুরোনো। নিজের সন্তানের মতোই সযত্নে প্রতিপালন করছেন এসব গাছ।

তিনি জানান, বাবা আলতাফ হোসেন হাওলাদারের সাত ছেলের মধ্যে তিনি সবার ছোট। ঢাকা নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে কামিল (এমএ) পাস করেন ১৯৮৬ সালে। গলাচিপা শহর ও নিজ গ্রামের কয়েকটি মসজিদে ইমামতির চাকরি করেছেন।

'ছোটবেলা থেকেই গাছ লাগানোর প্রতি ঝোঁক ছিল' উল্লেখ করে সিরাজুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, 'গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয়। ছায়া দেয়। ফল দেয়। গাছের ছায়ায় ক্লান্ত পথিক বিশ্রাম নেন। গাছের পাতা মাটিতে পচে জৈব সার হয়।'

তিনি জানান, বেশিরভাগ চারা নিজেই বাড়িতে তৈরি করেন। আবার কিছু বাজার থেকে কেনেন। মূলত বর্ষায় গাছ লাগান। বাকি সময় গাছের পরিচর্যা করেন।

তার রোপণ করা গাছের মধ্যে আছে—সুপারি, নারিকেল, পেয়ারা, জাম্বুরা, গাব, তাল, মেহগনি, রেইনট্রি, সুন্দরী ইত্যাদি।

প্রতিবেশীরা জানান, সিরাজুল ইসলাম হাওলাদার সরকারি রাস্তার দুই পাশে ও অন্যের জমিতেও গাছ লাগান। নিজের বাড়ি, গ্রামের পতিত জায়গা, সরকারি রাস্তার দুই পাশসহ সব সর্বত্রই সিরাজুল ইসলাম হাওলাদারের লাগানো গাছ চোখে পড়ে।গাছ লাগানো যেন তার নেশা ও পেশা।

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহিউদ্দিন আল হেলাল বলেন, 'সিরাজুল ইসলাম হাওলাদারের গাছ লাগানোর অভ্যাস আমাকে মুগ্ধ করেছে। তার এ কাজ প্রশংসার দাবিদার। 

তিনি আরও বলেন, আমরা তাকে সব রকম সাহায্য সহযোগিতা করবো।