, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪ , ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ


শতবছর বয়সে অন্ধ মুয়াজ্জিন মসজিদে যান রশি ও বাঁশ ধরে 

  • আপলোড সময় : ১৮-০৫-২০২৪ ০৮:৩৯:০২ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৮-০৫-২০২৪ ০৮:৩৯:০২ পূর্বাহ্ন
শতবছর বয়সে অন্ধ মুয়াজ্জিন মসজিদে যান রশি ও বাঁশ ধরে 
মুয়াজ্জিনের হৃদয় নাকি মসজিদে গাঁথা থাকে। এই কথাটির বাস্তব দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন নাটোরের আব্দুর রহমান মোল্লা। যার বয়স একশ পেরিয়েছে আরও ১৫ বছর আগে। কিন্তু এই বয়সেও তিনি নিয়মিত যান মসজিদে। আর তাকে তো যেতেই হবে। তিনি যে ওই মসজিদেরই মুয়াজ্জিন। সবাইকে নামাজে ডাকার গুরু দায়িত্ব তার উপরই। অন্ধ হওয়া সত্ত্বেও রশি ও বাঁশ ধরে মসজিদে গিয়ে আজান দেন আব্দুর রহমান মোল্লা।

এদিকে অন্ধ মুয়াজ্জিন আব্দুর রহমান মোল্লার বাড়ি নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার নগর ইউনিয়নের বড়দেহা গ্রামে। ২০ বছর আগে এক দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারান। এর ৬ বছর পর বড় ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে পবিত্র হজ পালন করেন। দেশে ফিরে নিজ গ্রামে তৈরি করেন একটি মসজিদ।

মসজিদের নামেই নিজের জমি রেজিস্ট্রি করে দেন। এরপর নিজেই সেই মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসাবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। কিন্তু জটিলতা দেখা দেয় মসজিদে আসা-যাওয়া নিয়ে। সেই প্রতিবন্ধকতাও জয় করে ফেলেছেন শতবর্ষী এই বৃদ্ধ। এজন্য বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত টেনে নিয়েছেন রশি ও বাঁশ। 

এদিকে আব্দুর রহমান মোল্লার ছেলে স্কুল শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম সাইফুল জানান, হজ থেকে আসার পর তার বাবা যে মসজিদটি স্থাপন করেছেন সেখানে ৫ ওয়াক্ত নামাজের আজান দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু বাড়ি থেকে মসজিদের দূরত্ব প্রায় ২০০ মিটার। তখনই জটিলতা দেখা দেয় আসা-যাওয়া নিয়ে। সেই জটিলতাও নিরসনের পথ বাতলে নেন আব্দুর রহমান মোল্লা নিজেই। 

বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত রাস্তায় রশি ও বাঁশ টাঙিয়ে দিতে বলেন। বাবার দেওয়া পরামর্শ অনুযায়ী রশি ও বাঁশ টাঙিয়ে দেন ছেলেরা। এরপর প্রথম দিকে কয়েকদিন তার ছেলে ও নাতিরা রশি ও বাঁশের সাহায্যে মসজিদ পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে তাকে যাতায়াত ও রাস্তা পার হতে অভ্যস্ত করে তোলেন।

এছাড়া বাঁশ ও রশি খুঁজে পেতে তার হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি লাঠিও। এভাবে কয়েকদিন দেখিয়ে দেওয়ার পর আর কারও সাহায্য নিতে হয়নি শতবর্ষী এই বৃদ্ধকে। এরপর থেকে তিনি নিজেই দড়ি ও বাঁশের সাহায্যে বাড়ি থেকে মসজিদে যাচ্ছেন।