, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪ , ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ


২০ রোজার পর মাংস বিক্রি ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা খলিলের

  • আপলোড সময় : ২৫-০৩-২০২৪ ১০:১৯:৪০ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৫-০৩-২০২৪ ১০:১৯:৪০ পূর্বাহ্ন
২০ রোজার পর মাংস বিক্রি ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা খলিলের
এবার যাদের জন্য এতকিছু করেছেন তারাই আজ পাশে নেই। এ কারণে রাজধানীর শাহজাহানপুরের আলোচিত গরুর মাংস বিক্রেতা খলিলুর রহমান আগামী ২০ রমজানের পর থেকে আর মাংস ব্যবসা করবেন না। দুঃখ প্রকাশ করে জাতীয় একটি দৈনিকে এ কথা জানিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে খলিল বলেন, যে মাংস ব্যবসায়ীদের জন্য এতকিছু করলাম, তারা এখন কেউ আমার পাশে নেই। বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রবিউল আলম এতদিন আমার কাছে কাছে থাকলেও এখন আর নেই। সরকারও আর আমার সঙ্গে নেই। ফলে আমি আর মাংস ব্যবসাই করবো না। কথা দিচ্ছি, আগামী ২০ রমজানের পর আর খলিল মাংস বিতান থাকবে না। জীবনেও আর মাংস ব্যবসা করবো না।

সম্প্রতি নানা আলোচনা-সমালোচনায় উঠে এসেছে মাংস ব্যবসায়ী খলিলুর রহমানের নাম। কখনো দাম কমিয়ে আবার কখনো বাড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছেন তিনি। তাকে নিয়ে বিতর্কও অনেক। কেউ বলছেন, রাষ্ট্রীয় সুবিধা নিতে দাম কমিয়ে আলোচনায় থাকতে চেয়েছেন খলিল। আবার সাম্প্রতিক সময়ে তার বিরুদ্ধে নিম্নমানের মাংস দেয়ার অভিযোগও ওঠে। ক্ষুব্ধ ক্রেতার সঙ্গে মারামারির ঘটনাও সামনে এসেছে।

এদিকে প্রথম রমজানে ৫৯৫ টাকা কেজি দরে মাংস বিক্রির ঘোষণা দিয়ে তাক লাগান খলিল। পুরো রমজান মাসে এই দরে মাংস বিক্রির কথা থাকলেও ১০ রমজানে এসে বেঁকে বসেন। এক লাফে দাম বাড়িয়ে দেন ১০০ টাকা। লোকসানের অজুহাত তুলে ভারতীয় গরু আনতে ১০ দিনের জন্য সীমান্ত খুলে দেয়ার দাবি তোলেন। গত দুই দিনে দোকানও বন্ধ রাখেন তিনি।
 
খলিলের হঠাৎ এমন রহস্যজনক আচরণে যখন ক্ষুব্ধ ক্রেতা ও সংশ্লিষ্টরা, তখন গতকাল রোববার সংবাদ সম্মেলনে আবারও ঘোষণা দেন- ২০ রমজান পর্যন্ত ৫৯৫ টাকা কেজি দরেই মাংস বিক্রি করবেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে মাংস বিক্রির সময় ও দাম নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত জানিয়ে খলিল বলেন, আমি এখন থেকে সকাল ৭টায় দোকান খুলে বিকেল ৩টা পর্যন্ত মাংস বিক্রি করবো। আগামী ২০ রমজান পর্যন্ত প্রতিদিন ২০টা করে গরু বিক্রি করা হবে। এই সময়ে ৫৯৫ টাকায় গরুর মাংস বিক্রি করা হবে। আগে প্রতিদিন ৪০টি বিক্রি করলেও, এখন আর সেটি সম্ভব নয়।
 
এর আগে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ. এইচ. এম. সফিকুজ্জামান বলেন, গরুর মাংস বিক্রেতা খলিল, নয়ন ও উজ্জ্বল এতদিন লোকসান দিয়ে গরুর মাংস বিক্রি করেছেন। গরুর দাম বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে মাংসের দামও বেড়ে গেছে। তাদের পক্ষে কম দামে আর মাংস বিক্রি করা সম্ভব নয়। এ পরিস্থিতিতে তারা কি করবেন, এটি সম্পূর্ণ তাদের সিদ্ধান্ত।
 
তিনি বলেন, মূলত গরুর দাম বেশি হওয়ার কারণে মাংসের দাম বেড়ে গেছে। গত বছরের শেষদিকে খলিলের উদ্যোগে দেশের বাজারে কমতে শুরু করে গরুর মাংসের দাম। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মাস অ্যাসোসিয়েশন এক মাসের জন্য ৬৫০ টাকা দাম বেঁধে দেয়ার পর চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি থেকে আবারও বাড়তে শুরু করে মাংসের দাম।