, শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪ , ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ


চিকিৎসার অভাবে মারা যাওয়া বাবার তিন যমজ সন্তান চান্স পেল মেডিকেলে

  • আপলোড সময় : ১২-০২-২০২৪ ০৮:১৪:০৭ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১২-০২-২০২৪ ০৮:১৪:০৭ অপরাহ্ন
চিকিৎসার অভাবে মারা যাওয়া বাবার তিন যমজ সন্তান চান্স পেল মেডিকেলে
এবার বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলার তিন জমজ ভাই এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়েছে। ছোট্টকালে বাবা অসুস্থ হয়ে ভালো চিকিৎসার অভাবে মারা যান। তখন তাদের পণ ছিল ডাক্তার হওয়ার। আজ তাদের ছোট বেলার স্বপ্নপূরণের দ্বারপ্রান্তে। এমন তিন জমজ ভাইয়ের এক সঙ্গে মেডিকেলে চান্স পাওয়ার খবর বগুড়া জেলার টপ অব দ্যা টাউন হয়ে পড়েছে।

তারা ধুনট নবির উদ্দিন পাইলট হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও বগুড়া সরকারি কলেজ শাহ সুলতান থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশ করেন। তিন জমজ ভাই এর মাঝে মো. মাফিউল হাসান গত বছর ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ এবং এবার মো. সাফিউল দিনাজপুর মেডিকেলে ও মো. রাফিউল হাসান নোয়াখালী মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়েছেন।
 
এদিকে ধুনট নবির উদ্দিন পাইলট হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, মঙ্গলবার তিন ভাই এক সঙ্গে স্কুলে আসে। শিক্ষকদের কাছ থেকে দোয়া চায়। বিনয়ী, ভদ্র তিন শিক্ষার্থীদের দোয়া করি। তারা মিষ্টি নিয়ে এসেছিল। ওদের মেডিকেলে চান্স পাওয়া আমাদের স্কুলের গৌরব। 

শাহ সুলতান কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শহীদুল ইসলাম  জানান,  শুনেছি তিন জমজ ভাই এর মধ্যে গতবার একজন এবং দুজন মেডিকেলে চান্স পেয়েছে। ওদের জন্য দোয়া থাকলো।

তিন শিক্ষার্থীর রত্নাগর্ভা মা আর্জিনা বেগম জানান, ২০০৯ সালে ওদের বাবা গোলাম মোস্তফা হার্ট এটাকে মারা যায়। তখন ওদের বয়স ৫ মাস।  বাবার স্নেহ মমতা পাইনি ওরা। বাবা মারা যাওয়ার পর তিন সন্তানকে পড়ালেখা করানো নিয়ে বিপাকে পড়ি। নিজে কষ্ট করে জমি বিক্রি করে ওদের পড়ালেখা করিয়েছি। প্রায় ৫ বিঘা জমি ছিল।

বাবার বাড়ির জমিও বিক্রি করে ওদের পিছে লাগিয়েছি। বাকী যা আছে তাও প্রয়োজনে বিক্রি করবো। তবুও ওদের ডাক্তার বানাবো যাতে আমাদের মতো গরিব মানুষদের সেবা করতে পারে। কত খুশি হয়েছি প্রকাশ করতে পারবো না। গ্রামের লোকজন ওদের যখন দেখতে আসে তখন বুক ভরে যায়।

মাফিউল হাসান জানান, আমরা তিন জমজ ভাই বগুড়ায় ছাত্রাবাসে একই সঙ্গে থেকে সরকারি শাহ সুলতান কলেজে পড়েছি। মা কষ্ট করে এবং জমি বিক্রি করে পড়ালেখা করিয়েছেন।  কখনোই আমাদের কষ্ট করতে দেয়নি। তিনি আরো জানান, বথুয়াবাড়ী গ্রামের মধ্যে আমরাই প্রথম মেডিকেলে চান্স পেয়েছি। এর আগে আর কেউ চান্স পায়নি। খুবই ভালো লাগছে।

এদিকে শাফিউল ইসলাম  জানান, বাবা বেঁচে থাকলে আজ কত খুশী হকেন। বাবাকে হারিয়েছি শিশু কালে। সেই থেকেই এ মা ই বাবার  অভাব পূরণ করছে। সাধারণ মানুষের সেবা করার জন্য চিকিৎসক হতে পারি এই দোয়া চাই দেশবাসির কাছে।

এদিকে মো. রাফিউল ইসলাম জানান, অসুস্থ হয়ে বাবা মারা যায়। টাকার অভাবে ভালো চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি। তখন বুঝতে পারলাম বাবার সেই কথা তখন থেকেই তিন ভাই প্রতিজ্ঞা করি ডাক্তারি পড়বো এবং মানবতার কাছে গরিব মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা করবো। বাবার মতো যেন কাউকে অকালে মারা যেতে না হয়।